শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক এ্যামোনেষ্টির হিউম্যান রাইটস একাডেমি থেকে বিরল সম্মাননা অর্জন করলেন ফারুক ইকবাল  টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল প্যারাসেইলিং মালিক ফরিদ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের উঁকিঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু সৌদিতে এরদোগান-সালমান-শাহবাজ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, হতে যাচ্ছে কি প্রতিরক্ষা চুক্তি? যে কারণে ইসলামে চুপচাপ থাকাও ফজিলতপূর্ণ নতুন তালিকা হবে ইয়াবা কারবারিদের, অপহরণ রোধে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়িতে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ার মগনামায় ওযু করতে গিয়ে মসজিদের ইমামের মৃত্যু

সিংহী নদীর বাঁচার আশা ক্ষীন

মাইনউদ্দিন শাহেদ:

নদীর সঙ্গী সোহেল মারা গেছে প্রায় দুই মাস আগে। এরপর নতুন সঙ্গী হয় সম্রাট।কিন্তু সম্রাটের সঙ্গে নদীর বনিবনা ভালো ঠেকেনি।শুরু থেকেই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। এরমধ্যে দুদফায় মারামারি হয়েছে। এখন নদীর জীবন সংকটাপন্ন। তাকে বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

নদী কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের একটি সিংহীর নাম। এই সিংহীর সঙ্গী সোহেল মারা যায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে। এরপর নদীর বেষ্টনীতে সঙ্গী হয় সম্রাট। তারা দুইজনই সোহেল-হীরার সন্তান। গত ২ মার্চ নদী ও সম্রাটের মধ্যে প্রথম মারামারি হয়। চিকিৎসায় দুইজনই সেরে উঠে। মোটামুটি একই বেষ্টনীতে দুজনের সংসার চলছিল।

কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৭ মার্চ আবার দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে নদীর গলা ও পেটে কামড় দেয় সম্রাট। এরপর রক্তাক্ত নদীকে আলাদা করে ফেলা হয়। সেই থেকে নদীর চিকিৎসার জন্যে দুইটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে সাফারি কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের কর্তা সোহেলের আগেই মারা যায় হীরা। এই দম্পত্তির চার সন্তান নদী,সম্রাট,রাসেল ও টুম্পা। সিংহ-সিংহীর লালন-পালনের দায়িত্বে রয়েছেন পার্কের প্রাণী সংরক্ষক আখতারুজ্জামান খান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, নদী ও সম্রাট তাঁর হাতেই বড় হয়েছে। প্রায় ২২-২৩দিন ধরে নদী মুখে পানি ছাড়া কিছুই তুলছে না। নদীর এই পরিনতিতে তিনিও খুব কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানান।

গত সোমবার বিকেলে দেখা যায়,নদী বেষ্টনীর এক কোনায় শুয়ে আছে। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। গাল দিয়ে লালা বের হচ্ছে। তার উঠে দাঁড়ার খুব একটা শক্তি নেই। শরীরের হাঁড়গুলো ভেসে উঠেছে। পাশের বেষ্টনীতে এদিক-ওদিক পায়চারী করছে সম্রাট।সঙ্গীর এমন অবস্থায় সেও খুব অস্থির হয়ে উঠেছে।

পার্কের আরেক কর্মী সাইফুর রহমান জুয়েল জানান, নদীর অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। সঙ্গীর সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে সম্রাটেরও অস্থিরতা বাড়ছে। আমরা রাতদিন নদীকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন,‘নদীর চিকিৎসায় দুটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার রক্ষের নমুনা পরীক্ষায় এক ধরণের ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। আজ-কালকের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তত্ত্বাবধায়ক) মো. মাজহারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন,‘নদীর চিকিৎসায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।কিন্তু আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। এ অবস্থায় তাকে বাঁচানোর আশা খুবই ক্ষীন।তারপরও শেষ চেষ্টায় আছি।

চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারায় ২ হাজার ২৫০ একর বনে গড়ে তোলা হয় দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি এ পার্কের যাত্রা শুরু করা হয়। এর আগে ১৯৮০ সালে এটি ছিল হরিণ প্রজননকেন্দ্র। বর্তমানে পার্কে জেব্রা, ওয়াইল্ড বিস্ট, জলহস্তী, ময়ূর, অজগর, কুমির, হাতি, বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, হরিণ, লামচিতা, শকুন, কচ্ছপ, রাজধনেশ, কাকধনেশ, ইগল, সাদা বক, রঙিলা বক, সারস, কাস্তেচরা, মথুরা, নিশিবক, কানিবক, বনগরুসহ ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি প্রাণী রয়েছে। এগুলো আবদ্ধ অবস্থায় আছে। উন্মুক্তভাবে আছে ১২৩ প্রজাতির ১ হাজার ৬৫টি প্রাণী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুইসাপ, সজারু, বাগডাশ, মার্বেল ক্যাট, গোল্ডেন ক্যাট, ফিশিং ক্যাট, খ্যাঁকশিয়াল ও বনরুই।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION